Skip to main content

Featured post

শেখ হাসিনার ১৬ বছরের উন্নয়ন: একটি বিশ্লেষণ (২০০৯-২০২৪)

শেখ হাসিনার ১৬ বছরের উন্নয়ন: এক বিশ্লেষণ (২০০৯-২০২৪) শেখ হাসিনার ১৬ বছরের উন্নয়ন: এক বিশ্লেষণ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ১৬ বছরের উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও সামাজিক রূপান্তরের কৌশলগত বিশ্লেষণ (২০০৯-২০২৪) সূচিপত্র (Table of Contents) কার্যনির্বাহী সারাংশ: রূপান্তরের পথরেখা (২০০৯-২০২৪) সংযোগ ও নগর গতিশীলতা (Connectivity and Urban Mobility) স্ব-অর্থায়ন এবং আঞ্চলিক প্রভাব: পদ্মা সেতু ও যমুনা রেল সেতু মহানগরীর আধুনিকীকরণ: মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে ও অন্যান্য প্রকল্প চট্টগ্রাম-কক্সবাজার করিডোর: সুড়ঙ্গ ও বন্দর সুবিধা জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্পায়ন চালক (Energy Security and ...

৭ মার্চ, ১৯৭৬ : কেমন ছিলো সেই দিনটি?

৭ মার্চ, ১৯৭৬ : কেমন ছিলো সেই দিনটি?



অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল):


৭ মার্চ এখন ৫১’য়। সংগত কারণেই সারা দেশে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় উদযাপিত হচ্ছে ৭ মার্চ। আর এবারের ৭ মার্চের ঠিক আগ দিয়ে মন্ত্রিসভায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের জাতীয় স্লোগান হিসেবে স্বীকৃতি ৭ মার্চে অন্যরকম দ্যোতনা যোগ করেছে। ৭ মার্চে এই গৌরবকালে একটু ফিরে তাকানো যাক ১৯৭৬ সালের দিকে। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টিয়ে সে বছরও মার্চে এসেছিলো ৭। কেমন ছিলো সেই দিনটি? কীভাবে উদযাপিত হয়েছিলো ছিয়াত্তরের ৭ মার্চ?


আজ ৭ মার্চ যখন বাংলাদেশের জাতীয় দিবস আর ৭ মার্চের ভাষণ যখন একমাত্র ভাষণ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ, তখন ঘুরে আসা যাক বঙ্গবন্ধুর শরীরি অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রথম ৭ মার্চে। সেদিন বাংলাদেশে রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন জেনারেল জিয়া। তিনি ছিলেন একাধারে সেনাপ্রধান আর প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। জিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় ছিয়াত্তরের ৭ মার্চে, ওই ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানেই আয়োজন করা হয়েছিলো একটি বিশাল ইসলামী জলসার। সামরিক শাসনের অধীনে দেশে সব রকম সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও এই জলসার ব্যাপারে তা প্রযোজ্য হয়নি। হয়নি কারণ এর আয়োজকরা সবাই ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় সদস্য। সিরাত মাহফিল নামে আয়োজিত এই ইসলামী জলসায় সভাপতিত্ব করেন আজকের চিহ্নিত, দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।


এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রেখেছিলেন জিয়ার উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এয়ার ভাইস মার্শাল এম জি তোয়াব। সভা আলোকিত করে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন পাকিস্তানি আর লিবীয় রাষ্ট্রদূতরা। সভায় রাজাকার সাঈদী ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। দৈনিক ইত্তেফাকের ৮ মার্চ, ১৯৭৬ সংখ্যায় দেখা যাচ্ছে এসব দাবির অন্যতম ছিলো বাংলাদেশের নাম পরিবর্তন করে ইসলামী প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশ ঘোষণা, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত পরিবর্তন আর বেদাতী শহীদ মিনার ধ্বংস করা। জিয়ার সামরিক সরকারের দ্বিতীয় ব্যক্তি তোয়াব এসব দাবির প্রতি তার সরকারের সমর্থনের ঘোষণা দেন তাঁর ভাষণে। এ সময় স্লোগান উঠে, ‘তোয়াব ভাই তোয়াব ভাই, চান তারা পতাকা চাই’।


আজ যখন আমরা আমাদের এগিয়ে চলা আর সুন্দর সময়গুলো উপভোগ করছি, পঞ্চাশ বছর আগের সেই অস্বস্তিকর স্মৃতিটুকু টেনে আনার উদ্দেশ্য আমার একটাই- তারা আছে, আছে ঘাপটি মেরে, কিন্তু আছে বহাল তবিয়তেই। তারা সুযোগ খুঁজছে আবারও ছোবল দেওয়ার। ইথারে এখন নষ্ট ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। এই সময়ে আমাদেরও আমাদের ভালোটা ভালোভাবে বুঝতে, শিখতে হবে যাতে আর কখনোই আমাদের আর কোনো ৭ মার্চে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নব্য কোনো জিয়া, তোয়াব বা সাঈদীর ঔদ্ধত্য গলধকরণ করতে না হয়।


লেখক: ডিভিশন প্রধান, ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সদস্য সচিব, সম্প্রীতি বাংলাদেশ


Comments