Skip to main content

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০

যেহেতু বালুমহাল ইজারা প্রদান সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, বালুমহাল হইতে পরিকল্পিতভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন ও বিপণন, উহার নিয়ন্ত্রণ, এতদ্‌সংক্রান্ত সংঘটিত অপরাধসমূহ দমন এবং বালুমহাল ব্যবস্থাপনার নিমিত্ত একক কর্তৃপক্ষ নির্ধারণের লক্ষ্যে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইলঃ
সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন
১।
           (ক) এই আইন বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ নামে অভিহিত হইবে।
           (খ) এই আইন অবিলম্বে কার্যকর হইবে
সংজ্ঞা
২। বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
           (১) “ইজারাগ্রহীতা” অর্থ এই আইনের অধীন জেলা প্রশাসক হইতে বালুমহাল ইজারা গ্রহণকারী কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান;
           (২) “ইজারামূল্য” অর্থ এই আইনের অধীন ইজারাগ্রহীতা কর্তৃক বালু বা মাটিউত্তোলনের বিনিময়ে সরকারকে প্রদত্ত অর্থ;
           (৩) “কর্তৃপক্ষ” অর্থ ধারা ৬ এ বর্ণিত বালুমহাল ইজারা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ;
           (৪) “খনিজ বালু” অর্থ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণ ভারী খনিজ পদার্থ (heavy mineral) (যেমন Zircon, Rutile, IIImenite, Monazite, ইত্যাদি) সমৃদ্ধ বালু;
           (৫) “ফৌজদারী কার্যবিধি” অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898);
           (৬) “বালু” অর্থ খনিজ বালু ও সিলিকা বালু ব্যতীত অন্যান্য সকল প্রকার বালু;
           (৭) “বালুমহাল” অর্থ পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখিয়া আহরণযোগ্য বা উত্তোলনযোগ্য বালু বা মাটি সংরক্ষিত রহিয়াছে এইরূপ কোন উন্মুক্ত স্থান, চা বাগানের ছড়া বা নদীর তলদেশ যাহা এই আইনের অধীন জেলা প্রশাসক কর্তৃক বালুমহাল হিসাবে ঘোষিত;
           (৮) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;
           (৯) “বিভাগীয় কমিশনার” অর্থ বিভাগীয় কমিশনার বা তৎকর্তৃক ক্ষমতা প্রদত্ত অন্য কোন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার:
           (১০) “মাটি” অর্থ মটলড্ ক্লে, শেল বা ক্লে এবং চায়না ক্লে (Fire clay or White clay) ব্যতীত অন্যান্য মাটি বা বালু মিশ্রিত মাটি;
           (১১) “রাজস্ব অফিসার” অর্থ State Acquisition and Tenancy Act, 1950 (E. B. Act XXVIII of 1951) এর section 2(24) এ এ সংজ্ঞায়িত Revenue officer;
           (১২) “সিলিকা বালু” অর্থ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণ সিলিকন-ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ বালু।
 আইনের প্রাধান্য
৩। Ports Act, 1908 (Act XV of 1908 ), Inland Water Transport Authority Ordinance, 1958 (E. P. Ord. No. LXXV of 1958), খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন, ১৯৯২ (১৯৯২ সনের ৩৯ নং আইন) অথবা অন্য কোন আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা অন্য কোন আদেশ, প্রজ্ঞাপন বা নির্দেশনায় বালুমহাল ব্যবস্থাপনা এবং এতদ্‌সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।
কতিপয় ক্ষেত্রে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ
৪। বিপণনের উদ্দেশ্যে কোন উন্মুক্ত স্থান, চা বাগানের ছড়া বা নদীর তলদেশ হইতে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাইবে না-
          (ক) পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (১৯৯৫ সনের ১নং আইন) এর অধীন প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসাবে ঘোষিত হইলে;
           (খ) সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা হইলে, অথবা আবাসিক এলাকা হইতে সর্বনিম্ন ১ (এক) কিলোমিটার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত সীমানার মধ্যে হইলেঃ তবে শর্ত থাকে যে, সরকার, জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত হইলে, সরকারি গেজেটে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা, সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখপূর্বক, এই ধারায় উল্লিখিত কোন বিষয়ে উক্ত শর্ত শিথিল করিতে পারিবে;
           (গ) বালু বা মাটি উত্তোলন বা বিপণনের উদ্দেশ্যে ড্রেজিংয়ের ফলে কোন নদীর তীর ভাঙ্গনের শিকার হইতে পারে এইরূপ ক্ষেত্রে;
           (ঘ) ড্রেজিংয়ের ফলে কোন স্থানে স্থাপিত কোন গ্যাস-লাইন, বিদ্যুৎ লাইন, পয়ঃনিষ্কাশন-লাইন বা অন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ লাইন বা তদ্‌সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হইবার আশংকা থাকিলে;
           (ঙ) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর আওতাধীন উক্ত বোর্ড কর্তৃক চিহ্নিত সেচ, পানি নিষ্কাশন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বা নদী ভাঙ্গন রোধকল্পে নির্মিত অবকাঠামো সংলগ্ন এলাকা হইলে;
           (চ) চা বাগান, পাহাড় বা টিলার ক্ষতি হইতে পারে, এইরূপ স্থান হইলে;
           (ছ) নদীর ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ, মৎস্য, জলজ প্রাণি বা উদ্ভিদ বিনষ্ট হইলে বা হইবার আশংকা থাকিলে;
           (জ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার কর্তৃক, সময় সময়, সরকারি গেজেটেপ্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত এলাকা হইলে।
ভূ-গর্ভস্থ বা নদীর তলদেশ হইতে বালু বা মাটি উত্তোলন সংক্রান্ত বিশেষ বিধান
৫।
           (১) পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোন মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাইবে না।
           (২) নদীর তলদেশ হইতে বালু বা মাটি উত্তোলনের ক্ষেত্রে যথাযথ ঢাল সংরক্ষণ সাপেক্ষে, সুইং করিয়া নদীর তলদেশ সুষম স্তরে (River Bed Uniform Level) খনন করা যায় এইরূপ ড্রেজার ব্যবহার করতঃ বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করিতে হইবে।
           (৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন ড্রেজিং কার্যক্রমে বাল্কহেড বা প্রচলিত বলগেট ড্রেজার ব্যবহার করা যাইবে না।
একক কর্তৃপক্ষ
৬।
           (১) দেশের যে কোন চর এলাকা অথবা যে কোন স্থলভাগ হইতে বালু বা মাটি সরকার কর্তৃক ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে এবং সরকারি যে কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দিষ্ট নদী, নদী বন্দর, সমুদ্র বন্দর, খাল-বিল প্রভৃতি স্থান হইতে উত্তোলিত বালু বা মাটির বিপণনের প্রয়োজন দেখা দিলে উক্ত বিপণনের জন্য একক কর্তৃপক্ষ হইবে ভূমি মন্ত্রণালয়।
           (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয় প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের সহিত সমন্বয় করিবে।
অবাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বালু বা মাটি উত্তোলন
৭। অবাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কোন সরকারি কার্যক্রম বা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনে বালু বা মাটি উত্তোলনের ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে নাঃ তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত কার্যক্রম বা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বালু বা মাটি উত্তোলন ও ব্যবহার করিবার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন প্রয়োজন হইবে।
বালু বা মাটি রপ্তানি সংক্রান্ত বিধান
৮।
           (১) সরকার কর্তৃক সময় সময়, প্রণীত রপ্তানি নীতি আদেশের বিধান অনুসরণ ও সংক্রান্ত বিধান কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন গ্রহণক্রমে বাংলাদেশ হইতে বালু বা মাটি বিদেশে রপ্তানি করা যাইবে।
           (২) বাংলাদেশ হইতে বালু বা মাটি রপ্তানি সংক্রান্ত বিধান বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
বালুমহাল ঘোষণা ও বিলুপ্তকরণ
৯।
           (১) বালুমহাল চিহ্নিত ও ঘোষণাকরণের ক্ষেত্রে, উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, জেলা প্রশাসককে নিম্নবর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে-
                      (ক) সংশ্লিষ্ট এলাকার রাজস্ব অফিসার কর্তৃক পরিদর্শন করাইয়া ট্রেসম্যাপ ও তফসিলসহ স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিবেদন গ্রহণ করিবেন;
                      (খ) নৌ-বন্দর সীমার বাহিরে নির্ধারিত নৌ-পথে যেখানে বালু বা মাটি আছে সেই সকল স্থানে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর মাধ্যমে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ করাইয়া স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিবেদন গ্রহণ করিবেন;
                      (গ) দফা (ক) ও (খ) এর অধীন গৃহীত প্রতিবেদনের আলোকে বিভাগীয় কমিশনারের নিকট এতদ্‌সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রেরণ করিবেন।
           (২) উপ-ধারা (১) এর দফা (গ) এর অধীন প্রস্তাব প্রেরণের পূর্বে জেলা প্রশাসক পরিবেশ, পাহাড় ধ্বস, ভূমি ধ্বস অথবা নদী বা খালের পানির স্রোতের গতিপথ পরিবর্তন, সরকারি স্থাপনার (যথাঃ ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তাঘাট, ফেরিঘাট, হাটবাজার, চা-বাগান, নদীর বাঁধ, ইত্যাদি) এবং আবাসিক এলাকার কোনো ক্ষতি হইবে কিনা সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামত গ্রহণ করিবেন।
           (৩) কোন বালুমহালে উত্তোলনযোগ্য বালু বা মাটি না থাকিলে, বা বালু বা মাটি উত্তোলন করিবার ফলে পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিনষ্ট বা সরকারি বা বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা জনস্বার্থ বিঘ্নিত হইবার আশংকা থাকিলে, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনারের নিকট উক্ত বালুমহাল বিলুপ্ত ঘোষণা করিবার প্রস্তাব প্রেরণ করিতে পারিবেন।
           (৪) এই ধারার অধীন বালুমহাল চিহ্নিত ও ঘোষণাকরণ কিংবা বিলুপ্তি ঘোষণা সম্পর্কিত জেলা প্রশাসক কর্তৃক প্রেরিত প্রস্তাব বিভাগীয় কমিশনার পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক বা, ক্ষেত্রমত, সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক, অনুমোদন করিতে পারিবেন, বা সুস্পষ্ট নির্দেশনাসহ পুনঃপ্রস্তাব প্রেরণের নিমিত্ত ফেরত প্রদান করিবেন।
           (৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন লাভ করিলে জেলা প্রশাসক নির্ধারিত পদ্ধতিতে বালুমহাল ঘোষণা বা, ক্ষেত্রমত, বিলুপ্তিক্রমে উহা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করিবেন।
           (৬) এই ধারার অধীন কোন বালুমহাল ঘোষণা বা বিলুপ্ত করা হইলে জেলা প্রশাসক অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে উহা অবহিত করিবেন।
           (৭) এই ধারার অধীন বালুমহাল ঘোষণা বা বিলুপ্তির আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সরকারের নিকট আপত্তি উপস্থাপনপূর্বক দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবেন এবং এই ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
           (৮) এই আইন বলবৎ হইবার পূর্বে জেলা প্রশাসক কর্তৃক ঘোষিত বালুমহাল এইরূপে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন চিহ্নিত, ঘোষিত ও প্রকাশিত হইয়াছে।
 বালুমহালইজারা প্রদান,ইত্যাদি
১০।
          (১) সকল বালুমহাল, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উম্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা প্রদান করিতে হইবে।
          (২) এই আইনের অধীন ইজারা প্রদান সংক্রান্ত সকল বিষয়ে জেলা প্রশাসককে সহায়তা করিবার জন্য প্রতিটি জেলায় জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি নামে একটি কমিটি থাকিবে।
          (৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন গঠিত জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির গঠন ও কার্যপদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
          (৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন উম্মুক্ত দরপত্রে জেলা প্রশাসনের নিকট এই আইনের অধীন তালিকাভুক্ত কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কেহ অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন না।
           (৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন তালিকাভুক্তির শর্তাদি, মেয়াদ ও পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
           (৬) কোন বালুমহাল ইজারার প্রস্তাব অনুমোদিত হইবার পর, জেলা প্রশাসক ইজারা প্রদত্ত বালুমহালের সুনির্দিষ্ট বর্ণনাসহ ইজারার শর্তসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখপূর্বক বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফরমে, ইজারা চুক্তি সম্পাদন করিবেন।
           (৭) ইজারা মূল্যের সম্পূর্ণ অর্থ আদায়ের পর সংশ্লিষ্ট ইজারাগ্রহীতাকে বালুমহালের দখল হস্তান্তর করিতে হইবে।
ইজারা ব্যতীত বালুমহাল হইতে বালু বা মাটি উত্তোলন, ইত্যাদি ও রাজস্ব আদায়
১১। কোন বালুমহাল ইজারা প্রদান করা না হইয়া থাকিল, উক্ত বালুমহাল হইতে এই আইনের অধীন ইজারা প্রদান ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে বালু বা মাটি উত্তোলন, পরিবহণ, বিপণন ও সরবরাহ করা যাইবে না এবং এই মর্মে কোন রাজস্বও আদায় করা যাইবে না।
নিষিদ্ধ জাতীয় বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি
১২।
           (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে এবং কর্তৃপক্ষকে সহায়তা ও পরামর্শ প্রদানের প্রয়োজনে জাতীয় বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকিবে।
           (২) জাতীয় বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির গঠন ও উহার কার্যপরিধি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
 বালুমহাল ইজারার মেয়াদ
১৩। বালুমহাল ইজারা প্রদানের মেয়াদ হইবে প্রতি বাংলা সনের ১ বৈশাখ হইতে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত।
 ইজারা বাতিল ও আপিল
১৪।
           (১) ইজারা গ্রহীতা ইজারামূল্য যথাসময়ে সরকারের নির্দিষ্ট খাতে জমা প্রদান না করিলে, অথবা ইজারা চুক্তিপত্রের কোন শর্ত ভঙ্গ করিলে, জেলা প্রশাসক বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট ইজারা চুক্তি বাতিল করিতে পারিবেন।
           (২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন ইজারা চুক্তি বাতিল হইলে সংশ্লিষ্ট ইজারা গ্রহীতার জামানত সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হইবে।
           (৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইজারা গ্রহীতা বা সংশ্লিষ্ট সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি উক্ত সিদ্ধান্ত প্রদানের ৭(সাত) কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের নিকট আপিল দায়ের করিতে পারিবেন।
           (৪) বিভাগীয় কমিশনার উপ-ধারা (৩) এর অধীন আপিল প্রাপ্তির সর্বোচ্চ ২০ (বিশ) কর্মদিবসের মধ্যে, প্রয়োজনীয় শুনানী গ্রহণক্রমে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আপিল নিষ্পত্তি করিবেন।
           (৫) উপ-ধারা (৪) এর আপীল নিষ্পত্তিতে বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
 অপরাধ, বিচার ও দন্ড
১৫।
           (১) এই আইনের ধারা ৪ এ বর্ণিত কতিপয় ক্ষেত্রে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ সংক্রান্ত বিধানসহ অন্য কোন বিধান কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অমান্য করিলে বা এই আইন বা অন্য কোন বিধান লংঘন করিয়া অথবা বালু বা মাটি উত্তোলনের জন্য বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করিলে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ব্যক্তিবর্গ (এক্সিকিউটিভ বডি) বা তাহাদেরসহায়তাকারী কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ অনূর্ধ্ব ২(দুই) বৎসর কারাদন্ড বা সর্বনিম্ন ৫০(পঞ্চাশ) হাজার টাকা হইতে ১০ (দশ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।
           (২) এই আইনের অধীন অপরাধ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ভ্রাম্যমান আদালত বা বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার হইবে।
           (৩) Code of Criminal Procedure, 1898 এ নির্ধারিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অর্থদন্ড আরোপ সম্পর্কিত সীমাবদ্ধতা এই আইনের অধীন নির্ধারিত অর্থদন্ড আরোপে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা সীমিত করিবে না।
           (৪) এই আইনের অধীন অপরাধ জামিনযোগ্য (Bailable), আমলযোগ্য (Cognizable) ও আপোষযোগ্য (Compoundable) হইবে।
           (৫) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত রায় বা আদেশ দ্বারা কোন পক্ষ সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি উক্ত দন্ডাদেশ প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আঞ্চলিক অধিক্ষেত্রের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আপিল দায়ের করিতে পারিবেন এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রদত্ত দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে ৬০(ষাট) দিনের মধ্যে স্থানীয় অধিক্ষেত্রের দায়রা জজের আদালতে আপিল দায়ের করিতে পারিবেন।
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
১৬। সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
অস্পষ্টতা দূরীকরণ
১৭। এই আইনের কোন বিধান কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোন অস্পষ্টতা দেখা দিলে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, উক্তরূপ অস্পষ্টতা অপসারণ করিতে পারিবে। "

Comments

Popular posts from this blog

Land Registration and Title Issues in Bangladesh: A Practical Guide

Land Registration and Title Issues in Bangladesh: A Practical Guide Land Registration and Title Issues in Bangladesh: A Practical Guide Land registration and clear titles are essential for secure property ownership in Bangladesh. Without proper registration, owners can find themselves facing costly legal battles, and face loss of their valuable investments. It is vital to understand the complexities of the laws and procedures related to land registration in Bangladesh, and how to protect your land rights. This comprehensive guide will provide you with vital insights into the various stages of land registration, starting from the verification of title deeds, to resolving title disputes. It also provides details on the intricacies of the current legal system, so you can protect your interests. ...

Leasing and Renting Property in Bangladesh: A Contemporary Legal Guide

Leasing and Renting Property in Bangladesh: A Contemporary Legal Guide Leasing and Renting Property in Bangladesh: A Contemporary Legal Guide Leasing and renting property is a common practice in Bangladesh, whether for residential or commercial purposes, and requires careful navigation due to the complexity of legal rights and regulations involved. However, without a clear and comprehensive understanding of the legal framework governing these transactions, both landlords and tenants can encounter disputes, and misunderstandings. This comprehensive guide will provide you with an in-depth look into the legal aspects of leasing and renting in Bangladesh. It is designed to provide practical advice, address the most common issues, and ensure you are fully aware of all your rights and responsibilities ...

শেখ হাসিনার ১৬ বছরের উন্নয়ন: একটি বিশ্লেষণ (২০০৯-২০২৪)

শেখ হাসিনার ১৬ বছরের উন্নয়ন: এক বিশ্লেষণ (২০০৯-২০২৪) শেখ হাসিনার ১৬ বছরের উন্নয়ন: এক বিশ্লেষণ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ১৬ বছরের উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও সামাজিক রূপান্তরের কৌশলগত বিশ্লেষণ (২০০৯-২০২৪) সূচিপত্র (Table of Contents) কার্যনির্বাহী সারাংশ: রূপান্তরের পথরেখা (২০০৯-২০২৪) সংযোগ ও নগর গতিশীলতা (Connectivity and Urban Mobility) স্ব-অর্থায়ন এবং আঞ্চলিক প্রভাব: পদ্মা সেতু ও যমুনা রেল সেতু মহানগরীর আধুনিকীকরণ: মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে ও অন্যান্য প্রকল্প চট্টগ্রাম-কক্সবাজার করিডোর: সুড়ঙ্গ ও বন্দর সুবিধা জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্পায়ন চালক (Energy Security and ...